বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা গড়ার মাঝে পঞ্চানন কর্মকারকে ভুলে গেছে বাঙালী

Recent

সুশান্ত কর্মকার ও বিজয় মাহাত: সদ্যসমাপ্ত লোকসভা ভোটের মরসুমে অমিত শাহের পথসভার সময়ে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙাতে রাজনৈতিক তরজার পারদ রমরমিয়ে চড়েছিল ‘কথামালা’ সাজাতে অভ্যস্ত বাঙালির মনে প্রাণে| আজকের আলোচনার প্রসঙ্গ কে ভেঙেছিল সেটা নয়, কে গড়লো সেটাও নয়| প্রসঙ্গ বর্ণপরিচয়-এর বর্ণ গড়ার কারিগর পঞ্চানন কর্মকারকে ভুলে যাওয়া নিয়ে| তবে কি বাঙালির ‘জীবনচরিত’-এ ‘বোধোদয়’ হ্রাস পাচ্ছে? বাংলা ভাষা নিয়ে অনেক জানা বা অজানা তথ্যের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন পঞ্চানন কর্মকার।

ছোটনাগপুরের বুকে বসবাসকারী লক্ষ লক্ষ মানুষের ভাষায় কিছু বাংলা শব্দের অনুপ্রবেশ ঘটেছে এবং নিজেদের হরফ সরকারি অনীহায় এখনো অবধি ততটা প্রচলিত না হওয়ার কারণে অনেকে বাংলা মুদ্রাক্ষর ব্যবহার করে থাকেন তাঁদের নিজেদের ভাষা লেখার জন্য বা ছাপানোর জন্য| বাংলা হরফ ব্যবহার করে নিজেদেরকে অবাঙালি ভাবা মানুষগুলোকে অনেক সময় টিটকারিরও সম্মুখীন হতে হয় তার জন্য| পুরুলিয়ার মত জেলার ভাগ্যটাই তো ঝুলছে পেন্ডুলামের মত বাংলা ভাষার জন্য| পুরুলিয়ার মানুষজনের ব্যবহৃত শব্দ গুলোকে বাংলা ভাষা বলে স্বীকার করতেও নারাজ আবার মানুষজনকে অবাঙালি ভাবতেও অনীহা ততাকথিত বাংলা প্রেমীদের| যারা ভালো করে বাংলায় বলতে শিখলোনা তারা বেছে বেছে বাংলার ‘অপভ্রংশিত’ শব্দ গুলো কি করে শিখলো সে গল্প নিছকই গল্পের গরুর গাছে চড়ার মতোই| পুরুলিয়ার প্রাচীন অধিবাসীদের কথাবার্তা, বেশভূষা, সভ্যতা, সংস্কৃতি আজও বাঙালিদের সাথে খাপ খায়না|

ছাপাখানা আবিষ্কার হওয়ার আগে বাংলা হাতে লেখা হত। স্বাভাবিকভাবেই তখন বাংলা হরফের কোন সার্বজনীন রূপ ছিল না। তা স্বত্ত্বেও সে সময় বাংলা লিপি লেখার কিছু ন্যূনতম নিয়মকানুন গড়ে উঠেছিল। পুরাতন বাংলা পুঁথি-পত্র ও দলিল-দস্তাবেজে এগুলির উদাহরণ মেলে। এগুলির উপর ভিত্তি করেই বাংলা ছাপাখানার প্রাথমিক যুগের হরফগুলি প্রস্তুত করা হয়। এসময় বাংলা হরফগুলির উপর মাত্রা অর্থাৎ একটি আনুভূমিক রেখা দেয়া হত। অর্থাৎ ছাপাখানা আসার আগেই বাংলাতে দেবনাগরী হরফের মত মাত্রা দেবার প্রচলন ছিল।

সে সময়কার বাংলা হরফে আরও কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল, যেগুলি বর্তমান বাংলা হরফে অনুপস্থিত। যেমন
১) র হরফটিকে ব-এর পেটে দাগ কেটে দেখানো যেত। অর্থাৎ পেট-কাটা ব দিয়ে এটি নির্দেশ করা হত। বর্তমানে এটি অসমীয়া লিপিতে এখনো অবধি প্রচলিত হলেও বাংলায় আর প্রচলিত নেই।
২) বর্তমান বাংলা বেশ কিছু হরফের নীচে ফুটকি বা বিন্দু দেওয়া হয়। এই ফুটকিগুলি তখনকার যুগে প্রচলিত ছিল না। র-কে পেটকাটা ব দিয়ে নির্দেশ করা হয়। য়-এর নিচে কোন বিন্দু ছিল না; এটি শব্দে অবস্থানভেদে ভিন্ন ভাবে উচ্চারিত হত।
৩) ড় এবং ঢ়-এরও কোন অস্তিত্ব ছিল না। ড এবং ঢ শব্দের মাঝে বসলে ড় এবং ঢ়-এর মতো উচ্চারিত হত।
৪) ত+উ ব্যঞ্জন-স্বর সমবায়টি “ত্ত” দিয়ে প্রকাশ করা হত। আজও কোন কোন আধুনিক বাংলা যুক্তাক্ষরে, যেমন স+ত+উ = স্তু (যেমন- বস্তু) এবং ন+ত+উ = ন্তু (যেমন- কিন্তু) — এই দুইটি যুক্তাক্ষরের ত+উ অংশে এর ফসিল দেখতে পাওয়া যায়।

সে সময় বাংলা ছাপা বইও বের হয়েছে। এগুলিতে বইয়ের একটি পাতা প্রথমে হাতে লেখা হত। তারপর সেই পুরো পাতার একটি প্রতিলিপি কাঠে বা ধাতুতে খোদাই করে নেওয়া হত। শেষে এই কাঠ বা ধাতুর ফলকে কালি লাগিয়ে একই পাতার অনেক কপি ছাপানো হত। একই লোকের হাতের লেখাতে যে বৈচিত্র্য থাকতে পারে, সেগুলি এই ছাপায় শুধরানো যেত না।

১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে চার্লস উইলকিন্স যখন হুগলিতে ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেডের লেখা ‘অ্যা গ্রামার অব দ্য বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ’ বইটি মুদ্রণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন, তখন পঞ্চাননবাবু তাঁর প্রযুক্তিজ্ঞান নিয়ে বাংলা হরফ প্রস্তুতের কাজে উইলকিন্সকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। ধাতুর ব্লকে ঢালাই করা একই আকৃতি একই হরফের জন্য একাধিক পাতাতে ব্যবহার করা যায় বলে বাংলা ছাপা হরফে একটা স্থায়ী, বৈষম্যহীন রূপ এসেছিল। তবে এই প্রথম দিককার হরফগুলি খুব সুদৃশ্য ও পরিণত ছিল না। ইংরেজির তুলনায় বাংলা হরফের আকার ছিল বেশ বড়। ইউরোপে এর প্রায় তিনশ’ বছর আগেই বিচল হরফে ছাপার প্রযুক্তি শুরু হয়ে গেলেও বাংলাতে এটি ছিল একেবারেই নতুন একটি ঘটনা। ১৮০০ সালে শ্রীরামপুরে ব্যাপটিস্ট মিশন প্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে উইলিয়াম কেরি ও উইলিয়াম ওয়ার্ড ছিলেন ছাপখান বিশেষজ্ঞ। তাঁরা সেখানে পঞ্চানন কর্মকারের চাকরির ব্যবস্থা করেন। এদের মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলা হরফের চেহারার উন্নতি হতে থাকে।

বাংলা হরফ নির্মাণের ক্ষেত্রে জোসেফ জ্যাকসনকে (১৭৩৩-১৭৯২) ‘বাংলা ছাপার হরফের জন্মদাতা’ বলা হলেও, তাঁর জন্মের ৫১ বছর আগে প্যারিস থেকে প্রকাশিত একটি গ্রন্থে বাংলা অক্ষরের নমুনা পাওয়া গিয়েছিল। উইলিয়াম বোল্ট জোসেফ জ্যাকসনকে দিয়ে বাংলা হরফ নির্মাণের চেষ্টা করলেও, প্রকৃতপক্ষে এ গৌরবের অধিকারী হলেন চার্লস উইলকিন্স (১৭৪৯-১৮৩৬) ও তাঁর সহকারী পঞ্চানন কর্মকার। পঞ্চানন বাবুকে অনেকে ‘বাঙালি ক্যাক্সটন’ হিসেবে অভিহিত করেন। কিন্তু পঞ্চানন কর্মকার ও তার অনুগামীরা মিলে বাংলা ছাড়াও আরও প্রায় ১৮ টি ভাষার হরফ নির্মাণ করেন তাঁদের সুদক্ষ ও নিপুন ছিনি ও হাতুড়ির কারিগরি দিয়ে| এই পঞ্চানন কর্মকারই প্রথম নির্মাণ করেন বাংলা হরফ। ১৮০১ খ্রিস্টাব্দে তাঁর তৈরি হরফে বাংলায় বাইবেলের নিউ টেস্টামেন্টর কেরিকৃত অনুবাদ ছাপা হয়। তিনিই বাংলা মুদ্রণাক্ষরের স্রষ্টা ও মুদ্রণশিল্পের প্রযুক্তিবিদ।পঞ্চানন কর্মকার মুদ্রণ শিল্প-এ বাংলা হরফের জনক ও মুদ্রণ প্রযুক্তিবিদ। তাঁর জন্ম পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার ত্রিবেণী গ্রামে। পঞ্চানন বাবুর পূর্বপুরুষ পেশায় ছিলেন কর্মকার বা লৌহজীবি। বেশ কয়েক পুরুষ আগে তাঁরা ছিলেন লিপিকার। তামার পাতে, অস্ত্রশস্ত্রে অলঙ্করণ বা নামাঙ্কনের কাজে তাঁর পূর্বপুরুষরা ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ। বংশানুক্রমে তিনিও পূর্বপুরুষদের এই শিল্পবৃত্তির গুনাগুণ। পূর্বপুরুষেরা প্রথমে ছিলেন হুগলী জেলার জিরাট বলাগড়ের অধিবাসী, পরে ত্রিবেণীতে গিয়ে বসবাস শুরু। সেখানেই জন্মগ্রহণ করেন পঞ্চানন বাবু।১৮০৩ খ্রিস্টাব্দে তিনিই প্রথম ভারতবর্ষে দেবনাগরী ভাষায় হরফ নির্মাণ করেন। যদিও দেবনাগরী ভাষার অক্ষর গুলো মূলত নাগরী ভাষা থেকে নেওয়া এবং সংস্কৃতায়নকে প্রাধান্য দিতে, সংস্কৃত মন্ত্রকে দেবতাদের সাথে যোগাযোগের সরাসরি মাধ্যম হিসাবে তুলে ধরতে ভাষার নামের আগে ‘দেব’ শব্দ যোগ করে দেবনাগরী করে দেওয়া হয়| কেরির সংস্কৃত ব্যাকরণ মুদ্রণের জন্য তিনি দেবনাগরী ভাষায় হরফ তৈরি করেন। পরে তিনি আরো ছোটো ও সুন্দর এক স্পষ্ট বাংলা হরফের নকশা তৈরি করেন। বাংলা মুদ্রণশিল্পে পঞ্চানন কর্মকারের তৈরি হরফের নকশা দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত ছিল। বাংলা ভাষায় ছাপার ইতিহাসে প্রথম চলনসই বাংলা ও সংস্কৃত অক্ষরের ছাঁচ তৈরির অগ্রদূত হিসেবে পঞ্চানন কর্মকারের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে – এমনটা আশা করে স্বাভাবিক তবে বাস্তবে তা হয়না। ১৮০৪ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৪৭ খ্রিস্টাব্দে সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপনা ছেড়ে দিয়ে জীবিকা অর্জনের জন্য একটি ছাপাখানা খোলেন। বিদ্যাসাগর বাংলা বর্ণমালা সংস্কারের জন্য অনেকগুলি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তাদের মধ্যে এখানে প্রাসঙ্গিক হল : ড ও ঢ-এর নীচে ফুটকি দিয়ে বিদ্যাসাগর ড় ও ঢ় হরফ দুইটির প্রচলন করেছিলেন।

প্রশ্ন হচ্ছে জঙ্গমহলের বীর কন্যা মনিকা মাহাত’র মত একখানা জলজ্যান্ত, নিষ্পাপ প্রাণের অকালে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা খবরের ভিড়ে চাপা পড়ে গেলেও ঠিক একই সময়ে বিদ্যাসাগরের নিস্প্রান মূর্তিকে নিয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনায় বিদ্যাসাগরকে নিয়ে এতো হৈচৈ হলেও পঞ্চানন কর্মকার নিয়ে বাঙালিদের খুব একটা আবেগ দেখা যায়না| খুব সম্ভাব্য কারণ হিসাবে যেটা ধরা হয় সেগুলো হল:
পঞ্চানন বাবু কোনো উচ্চ্চবর্ণীয় হিন্দু ছিলেন না, তাই তাঁর উপর একটু অনীহা থাকার মধ্যে কোনো অস্বাভিকতা বোধ করেননি কেউ| কামার মূলত একটি দ্রাবিড়িয়ান উপজাতি| তেলেগু সাম্রাজ্যে তারাই কাম্মালা নামে পরিচিত| দ্বিতীয়ত, পঞ্চানন কর্মকারের ছিনি হাতুড়ি দিয়ে তৈরী করা বাংলা অক্ষর গুলো দিয়ে ছাপানো বাইবেল ব্যবহৃত হয়েছিল মানুষকে খ্রিষ্টান ধর্মে রূপান্তরিত করার জন্য| সেটাকেই ভালো ভাবে মেনে নিতে পারেননি ব্রাহ্মণ্যবাদী সমাজ| অপরদিকে বিদ্যাসাগর সংস্কৃতের অধ্যাপক এবং উচ্চবর্ণীয় হিন্দু তাই বিদ্যাসাগরকে নিয়ে মাতামাতি করলে সংস্কৃতায়ন ও ব্রাহ্মণ্যবাদ দুটোকেই উপরে তুলে রাখা হয়| সংস্কৃতায়ন ও ব্রাহ্মণ্যবাদকে অক্ষুন্ন রাখতে তাইতো এখনো ‘তিন-এ নেত্র ও চার-এ “বেদ”‘ পড়ানো হয় পশ্চিমবংয়ের সরকারি সিলেবাসে| যে গ্রন্থের লেখকের ঠিক-ঠিকানা নেই তাকে প্রাথমিক শিক্ষার সময়েই শিশুর মনে ঢুকিয়ে দেওয়া  মানুবাদকে প্রতিষ্ঠা করতে এগোনোর দিকে প্রাথমিক ধাপ|

বিদ্যাসাগর মেদিনীপুরের লোক ছিলেন| মেদিনীপুরে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের বাড়ির ভৌগোলিক অবস্থানের বিশেষ গুরুত্ব ছিল তাঁর কর্ম জীবনে| একদিকে বাঙালি জনপদ অন্যদিকে ছোটনাগপুরের আদিম মানব প্রজাতি, আদিবাসী সমূহের মধ্যবর্তী জায়গা এই মেদিনীপুর| ছোটনাগপুরের কুড়মি সমেত অনেক উপজাতি দ্রাবিড়িয়ান বংশোদ্ভূত| তামিলদের পরব তিহারের সাথে ছোটনাপুরের কুড়মি সম্প্রদায়ের নেগাচারের অনেক মিল আছে| দ্রাবিড়িয়ান উপজাতির মানুষদের নামে, লেখায়, উচ্চারণে ড় ও ঢ় অক্ষরের বিশেষ ভূমিকা আছে| ছোটনাগপুরের ইতিহাস বিস্মৃত গৌরবময় হড় মিতান সভ্যতার ইতিহাসে কামার সম্প্রদায়ের অবদান ও ভূমিকা অনস্বীকার্য| বিদ্যাসাগর হয়তো সেটা লক্ষ্য করেছিলেন এবং বুঝেছিলেন যে ছোটনাগপুরের বুকে সংস্কৃতায়নের বাসা বাঁধতে বাঁধতে গেলে ড় ও ঢ় অক্ষর দুটো বাংলা ভাষাতে ঢোকাতেই হবে| তাই হয়তো তিনি সেদিকে পা বাড়িয়েছিলেন| ড় ও ঢ় কে এখনো আপন করে নিতে পারেনি আর্য্য বাঙালি সম্প্রদায়ের মানুষেরা| তাই হয়তো এখনো ‘পিঁদাড়ে পলাশের বন’ গাইতে গিয়ে ‘পিন্দারে পলাশের বন’ গেয়ে থাকেন অনেক বং| সদ্য গণধর্ষণ ও খুনের স্বীকার হওয়া মনিকা মাহাতোর গ্রামের নামে বাংলা খবরের কাগজে ‘মামড়ো’র পরিবর্তে হয়ে যায় মামরো| ড়-এর চক্করে কুড়মি সম্প্রদায়ের ইতিহাস আজ ইতিহাসের তলায়, সরকারের খাতা কলমে কুড়মি হয়ে গেছে কূর্মী- আর তাতেই জট ল্যাঠা’র শুরু ‘একাশি’ গোষ্ঠীর মানুষগুলোর জীবনে|

ঘটনার পরম্পরা ও তাৎপর্য্য বিশ্লেষণ করলে এটাও বোঝা যায় – যে বিধবা বিবাহ প্রবর্তনের জন্য বিদ্যাসাগরের সমাজ সংস্কার বাঙালির হৃদয়ে চিরজাজ্জ্বল্যমান সেই বিধবা বিবাহ ছোটনাগপুরের বুকে কুড়মি সমেত অনেক জনজাতির মধ্যে ‘সাঙ্ঘা’ নামে অনেক আগে থেকেই প্রচলিত ছিল| বলাবাহুল্য আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে রামমোহনের উদ্যোগেবন্ধ করা ‘সতীদাহ প্রথা’ও প্রচলিত ছিলনা| ছিঁটে ফোঁটা অনুপ্রবেশ যেটুকু ঘটেছিল সেটাও ছোটনাগপুরের আদিবাসীদের ছলে বলে কৌশলে হিন্দু ধর্মে রূপান্তরণের কারণে| পঞ্চানন কর্মকার ও তাঁর উত্তরসূরি সমূহ যথাযোগ্য সম্মান পাক না পাক বিদ্যাসাগরের মূর্তি জ্বলজ্বল করবেই বাংলা তথা ভারতের বুকে – ভারতবর্ষের অন্যান্য অনেক রাজ্যের মত বাংলাও যে নীল সাদা ছেড়ে গেরুয়া হতে চাইছে| এখন সংবিধান কবে মনুস্মৃতিতে বদলি হয় সেটাই হয়তো অপেক্ষার বিষয়|

 

(N.B.: This is  a blog, not news portal)

Leave a Reply