ছোটনাগপুরের আদিম জনজাতি কুড়মি – প্রথম পর্ব

Our Voice

লালন কুমার মাহাত ও সহদেব মাহাত : ভারতবর্ষের ইতিহাসে কৃষি গতিশীলতার হকদার যদি কেউ হয়ে থাকে তাহলে তার বৃহত্তম দাবিদার হিসাবে ছোটনাগপুর এলাকার কুড়মি সম্প্রদায় অবশ্যই সেই তালিকায় জায়গা পাবে। ঊনবিংশ শতাব্দী থেকে এই সম্প্রদায়কে আদিবাসী হিসাবেই মানা হয়। অনেকেই ছোটনাগপুর কুড়মি ও উত্তরভারতের কুর্মী সম্প্রদায় এক ও অভিন্ন বলে দাবি করেন, কিন্তু সেসব দাবি ঠিক নয়। কুর্মী শব্দের উদ্ভব নাকি কুর্ম (বা কচ্ছপ, আদিবাসীদের একটি টোট্যাম) থেকে এসেছে। ব্রিটিশ সরকার একবার এই সম্প্রদায়কে ক্রিমিনাল বা অপরাধী উপজাতির তকমা দিয়েছিল। সেসময় জাতপাতের ভেদাভেদ ছিল চরমে। প্রাগার্য্য মানুষদের সাথে অনাদিবাসী মানুষদের সংঘাত প্রায় লেগেই থাকতো। অনাদিবাসী সমাজের চতুর্বর্ণ প্রথা তখন মাথা চাড়া দিয়ে উঠে বসেছে। ঈশ্বর নামক বুজরুকি, ধর্মগ্রন্থের মিথ্যা গল্পের প্রচার প্রসার, মূর্তি পূজার বাড়াবাড়ি চলছে।ভারতের আসল বাসিন্দা প্রাগার্য্য মানুষগুলো তখনকার দিনে অনাদিবাসী চতুর্বর্ণে বিশ্বাসী মানুষগুলোর কাছে অছ্যুৎ, অস্পৃশ্য। অনাদিবাসী মানুষেরা ছলে বলে কৌশলে প্রাগার্য্য মানুষ গুলোর উপর অহেতুক অত্যাচার করতো।

১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে এসে উত্তরপ্রদেশ ও বিহার এলাকার কিছু কুর্মী মানুষদের মনে হলো তারা অনাদিবাসীদের কাছে সাদরে গৃহীত হতে চাই।সামাজিক বৈষম্যকে তারা মেনে নিতে পারেনি। অগত্যা কোনো রাস্তা না দেখে বর্ণবাদী সমাজের লোকের মধ্যে গৃহীত হওয়ার জন্য, উচ্চবর্ণের লোকেদের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে আন্দোলন শুরু করেছিল। সেসময় তারা ভাবতো যে বোধহয় জাতে উঠলেই সমস্যার সমাধান হবে। বঞ্চনার শেষ হবে। কারণ যতটা গম্ভীর ছিল, আন্দোলনের গতিপথ ততটাই গলত দিশাতে ছিল। এই আন্দোলন শুরু হয় ১৮৯৪ সালে।সামাজিক গতিশীলতা আন্দোলনে সাড়া দিতে গিয়ে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বিহার ও উত্তর প্রদেশের অনেক কুর্মী নিজেদের মিথ্যা পরিচয় সৃষ্টি করে। তারা নিজেদেরকে ক্ষত্রিয় বর্ণের বলে মিথ্যা দাবি করতে শুরু করে। অল ইন্ডিয়া কুর্মী মহাসভা ( সদর কুর্মী ক্ষত্রিয় সভা) গঠিত হয় এবং ১৮৯৪ সালে প্রথম অধিবেশন হয়। লক্ষ্য ছিল নিজেদেরকে উঁচুতে তুলতে হবে। কর্মে, শিক্ষায় উঁচুতে না তুলে জাতে উপরে উঠতে চেয়েছিল সেদিনকার কুর্মীরা।

এরকমের মাঝেই ঘটে এক ঘটনা, যা বিশেষ ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করে কুর্মী সমাজে। ব্রিটিশ সরকার পুলিশের চাকরির জন্য কিছু বিজ্ঞাপন বার করে, সেখানে কুর্মী সম্প্রদায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। কুর্মী সম্প্রদায় সেদিন ব্রাত্য ছিল চাকরির জন্য। এতেই ক্ষেপে যায় কুর্মী সম্প্রদায় আরও বেশি করে। মূলত উত্তরপ্রদেশের ও বিহারের কুর্মীরা নিজেদের দল ভারী করতে শুরু করে। শীঘ্রই কুর্মী সম্প্রদায়ের সেদিনকার পদাধিকারীরা পাটনার অবধিয়া (Awadhiya), উত্তর বিহারের ধানুক জাতি এবং ছোটনাগপুর এলাকার আদিবাসী কুড়মি (মাহাতো) সম্প্রদায় কেও নিজেদের ভাই-ভায়াদ বলে মিথ্যা প্রচার শুরু করে। কুড়মি এবং কুর্মী শব্দ দুটোকে মিলিয়ে দিতে চেষ্টা করে। হয়তো তখনকার দিনে ছোটনাগপুর কুড়মি সম্প্রদায়ের দু চার জন লোক ভুল বুঝে তার সহমতিও দিয়েছিলো। আর তাতেই অল ইন্ডিয়া কুর্মী মহাসভা ( সদর কুর্মী ক্ষত্রিয় সভা) নিজেদের অস্তিত্ত্বকে জোর জবরদস্তি সারা ভারতে আছে এমনটাই প্রমান করার চেষ্টা করে এবং সেদিনকার সংগঠনের পদাধিকারীরা ভালো করেই জানতো সংখ্যা বেশি দেখাতে পারলে হয়তো মিথ্যা পরিচয় সৃষ্টি করে জাতে উঠা যাবে , হয়তো সম্মান বাড়বে। তখনকার দিনে ছোটনাপুরের কুড়মি সমাজে শিক্ষা দীক্ষার হার নগন্য ছিল, পড়াশোনা না জানায় মানুষের আত্মবিশ্বাস কম হতো এবং সহজেই শিক্ষিতদের দ্বারা করা মিথ্যা দাবি গুলো চোখ বুজে মেনে নিতো। অবিশ্বাস করার শক্তি খুব কম ছিল তখনকার ছোটনাপুরের আদিবাসী কুড়মি মাহাতো সমাজে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কুড়মি ও কুর্মী শব্দ দুটোর বানান সাধারণ ইংরেজিতে একই রকম । আর তাতেই আরও বিপত্তি বাড়ে। বিভ্রান্তি বাড়ে। তাছাড়াও ভারতবর্ষে ব্রিটিশ আমল থেকে ভুলভাল জনগণনার রীতি আছে। জননগণনার সময় সরকারি বাবুরা তাদের কাগজে কি লিখে নিয়ে গেলে সেটা জনসাধারণ সহজে জানতেই পারেনা। সরকারি বাবু কাগজে ভুল করলেও সেটাই সরকারি কাগজে রেকর্ড হয়ে যায় । ভুল ঠিক পরীক্ষা করার মত কোন মাথাব্যথা সরকারের নেই। ব্রিটিশ আমলে ছিলোনা এখনো নেই। সেসময় কুর্মী সম্পদায় ছাড়াও আরও অনেক সংগঠন আন্দোলনে করছিলো তাদের মধ্যে আঞ্জুমান ইসলামিয়া (১৮৫৫), কায়স্থ সম্মেলন ও মোহামেডান সমিতি (১৮৮৭), প্রধান ভূমিহার ব্রাহ্মণ সভা (১৮৮৯), দুশ্বাসন বংশীয় ক্ষত্রিয় মহাসভা (১৮৯১), রাজপুত সভা (১৮৯৬), মারোয়ারী যুবজন সভা (১৯০৭), আখিল ভারতীয় কুর্মি ক্ষত্রিয় সভা (১৯০৯), গোপ জাতীয় সভা (১৯১১), কুরমি সভা (১৯১১), কাহার সভা (১৯১২), যাদব সভা (১৯১৩), কেওবত সভা (১৯১৩) এবং তেলী সভা (১৯১৮) উল্লেখ্য। বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য ১৯৩৩ সালে গঠিত যাদব, কুর্মী ও কোয়েরি সম্প্রদায়ের যুক্ত ফ্রন্ট ত্রিবেণী সংঘ। ব্রাহ্মণ্যবাদের সাথে সাথে বৈষ্ণববাদের প্রভাব ও পরে কুর্মী এবং কুড়মি উভয় সম্প্রদায়ের ইতিহাসে। তার ফলে অনেকে নিজেকে তথাকথিত পবিত্র গোপন সুতা অর্থাৎ পৈতা পরার দাবিদার করে তোলে। কুর্মী সম্প্রদায়ের নেতারা দল ভারী করতে অবাধিয়া কুর্মী সমেত ধানুক জাতি এমন ছোটনাগপুর এলাকার কুড়মি দের সাথেও একে অপরকে বিয়ে করার নিদান দেয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য আজ অবধি ছোটনাগপুর কোন কুড়মি পরিবারের সাথে বিহার বা উত্তরপদেশের কুর্মী-দের সামাজিক বিয়ে সম্পন্ন হয়নি। সে সময় আর্য্য সমাজের অং বং চঙের বাড়াবাড়ি বেশ ভালোই ছিল। হিন্দু দের ভয় ছিল যাতে ওরা মুসলমানদের তুলনায় সংখ্যা না কম হয়ে যায় ।

তাই কুড়মি দেরকেও উপরে উঠানোর লোভ দেখিয়ে সমাজ গুলোর মধ্যে সংস্কৃত মন্ত্রের ছড়াছড়ি ঘটায়। ব্রাহ্মণদের কে দিয়ে অহেতুক পুজো পাশা শুরু করায়।

ছোটনাগপুর এলাকার কুড়মি সম্প্রদায়ের ইতিহাস পড়লে দেখা যায় বিভিন্ন জনগণনার রেকর্ডে পাওয়া যায় নিম্নোক্ত বিবরণী :
১৯০১ এবং ১৯১১ : আদিম সম্প্রদায় / আদিবাসী
১৯২১ : এনিমিস্ট / সর্বপ্রাণবাদী
১৯৩১ : আদিম উপজাতি
১৯৪১ : আদিবাসী হিন্দু ময়ূরভঞ্জ এলাকায় এবং ক্ষত্রিয় অন্যান্য এলাকায়

১৯০৯ সালে মির্জাপুরের চুনার-এর পঞ্চম সম্মেলনে স্থানীয় সভায় সর্বভারতীয় কুর্মী ক্ষত্রিয় মহাসভা ঘোষণা করা হয় কুর্মীদের ক্ষত্রিয় পটভূমি এবং তা প্রথমবারের জন্য তুলে ধরা হয়। বাঘেল খন্ডের শুয়োর পালনকারী ধনুকদের মতো কিছু অস্পৃশ্য সম্প্রদায়ের তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল যারা নিজেদেরকে কুর্মির উপ-বর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন। এইভাবে ইউপি এর কুর্মী সমাজ নিজেকে আর্য্য হিসাবে বিবেচিত করার মিথ্যা পরিচিতি সৃষ্টি করে।

১৯১৫ সালে দশম সর্বভারতীয় কুর্মী ক্ষত্রিয় মহাসভায় সমস্ত কুর্মির জন্য ক্ষত্রিয় মর্য্যাদার পক্ষে মিথ্যা প্রমাণ জোগানোর চেষ্টা হয়েছিল। কিছু মিথ্যা গল্প বানিয়ে নিজেদেরকে জাতে উঠানোর ধান্দায় লেগে পড়ে কিছু মানুষ।

১৯২২ সালে মনভূমের গালামারা’র অল ইন্ডিয়া সভায়, সমস্ত কুর্মির জন্য ক্ষত্রিয় আচার এবং রীতিনীতি গ্রহণ করেছিল কিছু মানুষ।তবে ছোটনাগপুর (ঝাড়খণ্ড) এবং এর আশেপাশের অঞ্চলের কুড়মি যারা আদিবাসী / উপজাতি / অস্পৃশ্য ছিলেন এবং উত্তর ভারতের চেয়ে আলাদা ছিলেন এবং এখনো আছেন। ব্রিটিশ সরকার তাদের সকলকে অ-উপজাতি বিভাগের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছিল। ব্রিটিশ সরকার কুড়মি ও কুর্মী দুটো জিনিসকে গুলিয়ে ফেলে। মানভূমের এই অধিবেশনে মূলত তখন কার দিনে শিক্ষার আলো কম থাকা কুড়মি সমাজকে ভুল বুঝিয়ে মিথ্যা পরিচয় সৃষ্টির সপক্ষে সায় দেওয়ানোর চক্রান্ত ছিল।

হিন্দু মহাসভার ভূমিকা

১৯১৯ সালে মন্টেগু চেমসফোর্ড আইনের শর্তাবলিতে ৮ নং এ বলা হয় যে আইন সভার
নিম্নকক্ষে ১৪৫ জন সদস্য থাকবে।তার মধ্যে ১০৪ জন নির্বাচিত হবে । তাছাড়া ৯ নং এ বলা হয় যে শুধু মাত্র আয়কর কর দাতারায় ভোটাধিকার পাবে। ফলে সাধারন মানুষের ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

১৯২০-এর দশকের মধ্যভাগ থেকে বাংলায় হিন্দু মহাসভার কর্মকান্ড মুখ্যত অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ ও ‘অপবিত্র’ জনের শুদ্ধিকরণে কেন্দ্রীভূত ছিল। স্থানীয় কংগ্রেস সদস্যদের সমর্থন নিয়ে হিন্দু মহাসভার নেতারা অস্পৃশ্য জনগোষ্ঠীর সামাজিক উন্নয়ন সাধনে ব্রতী হয়। বিশেষত ম্যাকডোনাল্ডের ‘Communal Award’-এর পরবর্তীকালে নীচুবর্ণের লোকদের মধ্যে হিন্দু মহাসভার কর্মকান্ড প্রভূত পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। হিন্দু মহাসভা আদমশুমারির সময় আদিবাসীদেরকে বর্ণ হিন্দুদের নামগ্রহণ করতে ও নিজেদেরকে ক্ষত্রিয় হিসেবে পরিচয় দিতে উদ্বুদ্ধ করে। মালদা জেলায় হিন্দু মহাসভার সক্রিয় কর্মীরা আদিবাসী শ্রমিক ও বর্গাচাষীদেরকে মুসলিম জোতদারের জমিতে কাজ না করার আহবান জানায়। তারা আদিবাসীদেরকে একদিকে হিন্দু রাজনীতিবিদদের সঙ্গে হাত মেলাতে, অন্যদিকে মুসলিম মনিবদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে উৎসাহিত করে। তারা মনে করে এভাবেই উত্তরবঙ্গে বর্গাচাষীদেরকে হাত করার বামপন্থী প্রয়াস প্রতিহত করা যাবে।
১৯২২ সালে হিন্দু মহাসভার তথাকথিত শুদ্ধি আন্দোলনের ফলে। দেশ ব্যপি দাঙ্গার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ১৯২৪ নাগাদ দেশ ব্যপি অহিন্দু আন্দোলন ও ব্রাহ্মণ্য বাদের বিরোধিতা শুরু হয়।মাদ্রাজে রামস্বামী, বিহারে যাদব, ভূমিহার আন্দোলন, মহারাস্ট্রে জ্যোতিবা ফুলে,পুনাতে কেশব রাওয়ের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়। এমতাবস্থায় সর্বভারতীয় নেতা হিসাবে বি আর আম্বেদকরের আবির্ভাব ও আইন সভায় অহিন্দুদের সংরক্ষনের দাবীতে আন্দোলন শুরু করে। ১৯২৫-২৬ দেশ জুড়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ১৯২৭ এ লর্ড বার্কেনহেড সংবিধান রচনার জন্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ঁলেন দেশের কাছে। ১৯২৮ এ আইন সভায় আসন সংরক্ষন নিয়ে মুসলিম লিগ ও হিন্দুমহাসভার দ্বন্দ্ব চরমে উঠে ।শিখ সম্প্রদায়ও আলাদা সংরক্ষন দাবী করে। আতঙ্কিত হয়ে উঠে হিন্দু মহাসভা। ১৪৫ আসনের মধ্যে হিন্দুদের আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ৪০।ধর্মান্তকরনের নেশায় মেতে উঠে হিন্দু সংগঠন গুলি। মদনমোহন মালব্য বলেন-” হিন্দু মহাসভার লক্ষ্য কংগ্রেসের হাত কে শক্ত করা।”

১৯৩০-এর দশকের শেষভাগে কয়েকটি নতুন হিন্দু সংগঠন হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার অভিযান শুরু করে। হিন্দু মহাসভা এদের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করে। বেশ কিছু জেলায় মহাসভা কর্মীরা নিম্নবর্ণের নেতৃত্বের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করত। নিম্নবর্ণের মানুষকে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করার এ প্রয়াস শেষাবধি তাদের সঙ্গে মুসলমানদের সংঘর্ষের রূপ নেয়। এ সংঘর্ষ প্রায়শই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় পরিণত হতো। তথাকথিত নিম্নবর্ণের হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে দাঙ্গা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ১৯৩০ এ কংগ্রেসের প্রথম গোল টেবিল বৈঠক হয়।
মুসলিম লিগ ও বি আর আম্বেদকর আসন সংরক্ষন ও স্বতন্তর নির্বাচনের দাবী করে।বৈঠক ব্যর্থ হয়।হিন্দুরা চোখ সর্ষে ফুল দেখে।ঝাঁপিয়ে পড়ে হিন্দুর সংখ্যা বাড়ার লক্ষ্যে ।হিন্দু মহাসভার সদস্য দিগেন্দ্র নাথ ভট্টাচার্য আর্যীকরনের লক্ষে ছোটনাগপুরের একক সংখ্যা গরিষ্ঠ জাতি কুড়মির উপর থাবা বসায়।জলচল আন্দোলনের সূত্র ধরে প্রভাবশালী কুড়মি নিরঞ্জনমহন্তকে প্রভাবিত করে। ৪০০ টাকা বেতন এর মাধ্যমে গ্রামের মোড়লদের প্রভাবিত করে।দিগেন্দ্র বাবুর কৌশলে প্রচার করতে শুরু করে যে ,কুড়মিরা নাকি কূরম ঋষির বংশধর! আর কূরম হল:- বিষঞু- চতূরমূখ ব্রহ্মা – মনু- মারিচি- কাশ্যপ- অত্রি- চন্দ্র- বুধ- পুরুরবা- ত্রপু- বাম- কুশ- তার পুত্র কূরম। এতএব কুড়মি দের মূলে বিষ্ঞু আছে এমনতাই প্রচার করতে শুরু করে।তোমরা ক্ষত্রিয় বংশজাত এরকম ভ্রান্ত ধারণা দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করে তৎকালীন কুড়মি লোকজনকে। এটা পরাশর স্মৃতিতে বলা হয়েছে। এইভাবে বিভ্রান্ত করে আদিম জনজাতি,অর্ধশিক্ষিত,সহজ সরল কুড়মি দের রূপান্তকরণের চেষ্টা করে অনেকেই। তৎকালীন সময়ে মানভূমের নেতা নিবারণ চন্দ্র দাসগুপ্তেরও অনেক প্রত্যক্ষ্য ও পরোক্ষ ভূমিকা ছিল এই সব কাণ্ডে।

১৯৩১ সালে ভালুবাসা গ্রামে ২০০০ কুড়মি পরিবার কে পৈতা দেয় দিগেন্দ্র নাথ ভট্টাচার্য। তারপর গোলামারা,পাইখবিররা ইত্যাদি অনেক জায়গায় ধর্মান্তকরন যজ্ঞ হয়। ঐ বছরেই প্ররোচিত করে সরকারের কাছে চিঠি পাঠার ব্যবস্থা করে কয়েক জন মাহাত জমিদার কে সই করিয়ে । এই মর্মে যে– কুড়মিরা আদিবাসী নয় তারা ক্ষত্রিয়।

ফল হয় ১৯৩২ সালে পুনাচুক্তির পর সংরক্ষন হারায় কুড়মি রা।সফল হয় ব্রাহ্মণ্য বাদীদের যড়যন্ত্র। তারপর মুরগি নিধনকে কে কেন্দ্র করে গন্ডোগোল হয়,বন্ধ হয় আর্যীকরন। পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ছোটনাগপুর মালভূমির ৩ কোটি আদিবাসী কুড়মি জাতিসত্তা হারিয়ে পথে বসে।

(পরবর্তী সংখ্যায় কুর্মী ক্ষত্রিয় মহাসভার চক্রান্তকারী চিঠি ও পুনা চুক্তির ফলে কুড়মি সম্প্রদায়ের কি লোকসান হয়েছিল সেদিকে আলোকপাত করা হবে)

Leave a Reply