পুরুলিয়া বাঁচাও—-নিজে বাঁচো

Our Voice

নির্মল হালদার:

পুরুলিয়া সব সময় পিছিয়ে পড়া এক জেলা।
পশ্চিমবঙ্গের অনুন্নত এক জেলা।
এমনটাই প্রচার হয়ে আসছে দিনের পর দিন।

আমি একজন পুরুলিয়া জেলার নাগরিক হয়ে বলতে পারি, পুরুলিয়া কোনোভাবেই অনুন্নত নয়।

প্রশাসনিক স্তরে কাজ না হলে, শিক্ষা স্বাস্থ্যে কাজ না হলে, পানীয় জলের ব্যবস্থা না হলে, জেলার সাধারণ মানুষ কি করতে পারে, খুব জোর প্রতিবাদ।

প্রতিবাদ করার জন্য মানুষকে সংগঠিত করার কাজ, কে করবে কারা করবে?

রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করে
জনসাধারণের মুখ বন্ধ করে রাখে। পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি করে, মুখে এঁটে দেয় তালাচাবি।

প্রতিবাদ করবে কে? কারা?

সাধারণ মানুষ গরিব মানুষ নিম্নবিত্ত মানুষ এমনকি মধ্যবিত্তরাও কোনো ঝামেলায় থাকতে চায় না।

প্রতিবাদে সামিল হয় না। কোনভাবেই।
সাতদিন টিউ কল ভেঙে পড়ে থাকলে, ঘেরাও হয়না মিউনিসিপ্যালিটির চেয়ারম্যান। গ্রামের দিকে পঞ্চায়েত।

মানুষ নির্বিকার থাকে।

এই ভূমিকা যথেষ্ট সমাজের ক্ষতি করে।
তারপরও বলতে হচ্ছে, পুরুলিয়া কোনোভাবেই পিছিয়ে পড়া নয়। সে নিজ গুণে রূপসী।নাচে গানে ছন্দে এবং অরণ্য প্রকৃতির রূপে পুরুলিয়া অনন্য।

পর্যটন মানচিত্রে পুরুলিয়ার স্থান ছিল না। হঠাৎ ২০১১ -র পরে পুরুলিয়া এগিয়ে গেছে।
পর্যটন শিল্পে পতাকা উড়ছে পুরুলিয়ার।

সারাবছর অযোধ্যা জয়চন্ডী পঞ্চকোট ইত্যাদি জায়গায় পর্যটকদের ভিড়।

হোটেলও ভিড় করেছে খুব।

যত্রতত্র ছোট-বড় হোটেল। রিসোর্ট। যাবতীয় আরামের ঠাঁই। বিনোদনের ব্যবস্থা। ছৌ নাচ আদিবাসী নাচ। মহুল মদ। হাঁড়িয়া।

ক্রমশ অরণ্য প্রকৃতি তার সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলছে। হোটেলের জানালা থেকে ছুঁড়ে ফেলা হয় মদ ও বিয়ারের বোতল। প্লাস্টিকের ব্যাগ। সিগারেটের প্যাকেট ইত্যাদি।

জঙ্গলের ভেতরে ভেতরে পিকনিক। হই হই।
বেজে যায় ডিজে।
ব্যাঘাত ঘটে পাখিদের। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পোকামাকড়ও চলাফেরা করতে অসুবিধে বোধ করে।

পর্যটনের নামে পর্যটন শিল্পের নামে যে অরাজকতা চলছে পুরুলিয়াতে, আমার মনে হয় অতি শিগগির ধ্বংস হয়ে যাবে পাহাড় নদী ঝর্ণা । লুটিয়ে পড়তে দেখবো জঙ্গলের রূপ।

একদল মুনাফাবাজদের মুনাফা বেড়েই চলেছে।

জঙ্গলের আদিরূপও আর নেই।

পর্যটকদের ভিড়ে স্থানীয় মানুষ কি সুখের মুখ দেখছে?
অর্থের মুখ দেখছে?

খোঁজ করলেই, প্রকৃত সত্যের উন্মোচন ঘটবে।

নদী পাহাড় জঙ্গলকে নিজের নিজের জায়গায় রেখে, যদি স্থানীয় মানুষের উপকার চায় সরকার, তাহলে স্থানীয় মানুষকে সহযোগিতা করুক। তাদের কাছে আর্থিক সহায়তা রেখে, হোমস্টে করা হোক।

স্থানীয় মানুষ উপকৃত হবে। পাশাপাশি হোটেলের নোংরা থেকে পরিবেশ রক্ষা পাবে অবশ্যই।

যে মানুষের পরোক্ষ সহযোগিতায় এখনো আছে নদী পাহাড় জঙ্গল, সরকার তাদেরই উপকারে এগিয়ে আসুক। তাদের সহযোগিতা করলেই, অরণ্য প্রকৃতি বেঁচে উঠবে।

পুরুলিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদ মাটির গভীরেও। খনন করলেই, সম্পদের পর সম্পদ। এবং এই সম্পদ রক্ষা করবে সাধারণ মানুষ। তাদের কাছে সরকার যদি সদিচ্ছার হাত বাড়িয়ে দেয়, আর্থিক উন্নতি ঘটবেই।

প্রাথমিক স্তরে, স্থানীয় মানুষের হাতেই ছেড়ে দেওয়া হোক পর্যটনশিল্পের ভার ।

যেকোনো পর্যটন কেন্দ্রে হোমস্টে হোক। স্থানীয় মানুষের উদ্যোগেই হোক।

হোটেল এবং রিসোর্টের বাড়াবাড়ি থেকে লোভ থেকে
আমার মনে হয়, পর্যটকরাও বাঁচবে।

যে পর্যটকরা জানেন, অরণ্য প্রকৃতির মানুষ কি।

আরেকটা কথা বলে আপাতত শেষ করছি, পুরুলিয়াকে বাঁচানোর লক্ষ্যে
পুরুলিয়ার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

Leave a Reply