মৃনাল কান্তি মাহাতোর তিন খানা কবিতা

Literature_of_soil
মৃনাল কান্তি মাহাতো:
আজকের মাটির সাহিত্যে আমরা পেয়েছি শ্রী মৃনাল কান্তি মাহাতো মহাশয়ের কবিতা |
(১)
 মারিভায়া হে তরহাকে আর নাই দিব ভোট।
সামতাল,কুড়মী, হাঁড়ি-মুচি বাঁইধেছি মোরা জোট।
রাস্তা দিব, জল দিব, বিলেছিলু দিব শিক্ষা
সত্তর বসর পাঁইরায় গেল দিলিস শুধু ভিক্ষা
কাজ নাই, কাম নাই, দিলু নাই ধানের দাম
মাও বইলে, হার্মাদ বইলে উঠালু পিঠের চাম
তদের হঁয়ে মিছিল করলি,ধরলি পার্টির ঝান্ডা
ছিঁড়া কাঁথায় পার করলি মাঘ মাইdসা ঠান্ডা।
রেলেরজন্য লাইন করলু, নাই দিলু রেল
কাঠ কয়লা লুটে নিয়ে দেখালু ভাই খেল
ভায়ে ভায়ে লড়হায় লাগায়, ঘরকে করলু পর
ভোটবাক্সে দেখায় দিব যতই দেখা ডর
ঠইকে ঠইকে আমরা সবাই শিখেছি টিপসই
তদের সঙ্গে লড়হাই করে জিইতব নিশ্চয়ই।
 (2)
হ্যাঁ, মাস্টার হামকে মাইরলেন!
কি বইললেন? পড়াশুনায় হামি মন দিহ নাই।
ঠিকই কহেছেন।হামকে আরহ মারেন।মাইরে মাইরে হামার মাথাটা ফাটায় দাও।তবু যদি হামার মাথাটা টুকুন সুগুম মারে।
কি কইরব মাস্টার মশাই, হামিও ত চাই।শালা মারিভায়া হামার মনটা যে কেলাস ঘরে নাই থাইকতে খুঁজে। ইধার উধার ইঁড়কিছেই।
কখনো ঘর তো, কখনো বাহির, ত কখনো অন্যকুথাও।
আপনি যখন কেলাস ঘরে কবিতা পড়ান, জীবননানন্দ দাশ, রবি ঠাকুর। সকৈল ছানা মন দিয়ে শুনে। কত সুন্দর আপনি কবিতা বলেন, বনলতা সেন।তবু হামার মনটা থির মারে নাই।ইঁড়কে দেই রাঁধাঘরে। আপনি যখন গদ্য পড়ান, হামি তখন মিড ডে মিলের কথা ভাবি। ভাতের কথা ভাইবতে ভাইবতে মাথাটা খেঁচড়ির লেখেন গোল্লা পাকায় যায় কেমন। তাইতো পড়ায় মন দিতে পারি নাই মাস্টার।
কি কইরব সার!
ভখা পেট কি আর কবিতা শুনে শান্ত হয়।
সকালবেলা কনহদিন পান্তা জুটে তো কনহদিন জুটে নাই।বাপটা হামার একনম্বরের মাতাল।সারাদিন শুধু মহুলার ধান্দায় থাকে।মাইটা সকাল সকাল পান্তা বাঁইধে কামে চইলে যায়,নয়তো পাত তুইলতে।
তাই পেটটা সকালবেলা নাই ভরে মাস্টার।মিড ডে মিলে ঠাইসে দি দুপইরাটা।মনটা তাই ঘন ঘন রাঁধাঘর দিগেই ইঁড়কে দেই।
মাস্টার মশাই হামকে আরহ মারেন। যাতে টুকুন পড়হাশুনায় মনদিতে পারি। মনটা টুকুন সুগুম মারে।
(৩)
বাপরে, কি কলির যুগ আইল মাইরি
ইয়াবড় থুথমা ফোনটা লিয়ে মেয়া মরদ সবাই কেমন খেঁচরাছেই।
ইস্টিশনে যাও, কলেজে যাও, হাট যাও, বাজার যাও সবখিনেই শুধু খেচরানা ফোন।
এই হামদের লাতিছঁড়াটার কথাটাই ধরন
ভোরলে সেই যে খেঁচরানা শুরু কইরল, উয়ার আর ছাইড় ছুইড় নাই
সেই মাঝরাইত তক ফোনটার দিকে ভাইলে আছে তো আছেই।
কাজ নাই কামনাই, পড়ালেখা নাই শুধু ফোন আর ফোন।
সেদিন শুধালি, হেঁ রে ছঁড়া ফোনটাই কি করিস তরহা? পাছে পিরীত করছু নকি
-পড়ালেখা করি,
– পড়ালেখা,! ই বাবা ইটা আবার কেমন পড়ালেখা!
– হঁ বে বুড়হা, কনটা ঘুম আর কনটা ধ্যান তরহা তার কি বুঝবি!
না জবাবি হঁয়ে গেলি হে। পড়াশোনার বহর দেইখে।
ছুটুলালের বউটাও পাছে এমন পারা পড়হা লেখা করথ?
দেখথি, সারাদিন রাইত ওই খেঁচরানা ফোনটা নিয়ে ঘুরছে,
কখন খেঁচরাছে, ত কখনো  গুজুর ফুসুর কইরথ আড়েআড়ে
শেষে কিনা ভাইগে গেইল কুথায়!
কি কলির যুগ আইল মাইরি, ছানার মা হঁয়ে তুই পালাবি!
কি কলি পইড়ল মাইরি!

One thought on “মৃনাল কান্তি মাহাতোর তিন খানা কবিতা

Leave a Reply