তালাবন্দি-১

Our Voice

নির্মল হালদার: বাজারের মধ্যেই আমার ঘর।

শাক-সবজি মাছ-মাংস তো আছেই। সঙ্গে মুদি দোকান, সেলুন। চা দোকান, তেলেভাজার দোকান। আর আছে মিষ্টির দোকান।

কেনাকাটার ভিড়ে ঘুরে বেড়ায় গরু। রাস্তায় বসে থাকে গরু। কুকুর শুয়োর একই সঙ্গে ঘুরে বেড়ায়।
ভোর থেকে সকাল কাক পায়রা শালিক।

মিষ্টি দোকান থেকে বাসি মিষ্টি সিঙ্গাড়া ভেঙ্গে ভেঙ্গে রাস্তায় ছড়িয়ে দেয় দোকানি। কাক পায়রা শালিক এসে খেয়ে যায়। ভাগ বসায় কুকুর। গরু এসেও খেতে চায় মিষ্টি দোকানের খাবার।

এখন এই ছবিটা পাল্টে গেছে।
দোকানপাট সব বন্ধ। কুকুরের জন্য কোন খাবার নেই। শালিক ও পায়রার জন্য কোন খাবার নেই।
মিউনিসিপ্যালিটির নালায় নেমে শুয়োর নোংরা ঘেঁটে নিজের আহার খুঁজে পাচ্ছে না।
নালায়তো আর জল নেই। মিষ্টি দোকানের জল নেই।

সবজি বাজার বসেছে বলে, গরুরা হয়ত ছুঁড়ে দেওয়া শাকসবজি, মানুষের করুণার খাবার পাচ্ছে। সবাই নয় অবশ্যই। কারণ, বাজারতো
বেলা বারোটার মধ্যে উঠে যায়।

সংকট শুধু মানুষের নয়, পশুপাখিদের কাছেও এসেছে। বিশেষ করে যে পশুপাখিরা শহরের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়ায়। কোথায় থাকে।

করোনাভাইরাস ওদের আক্রমণ করবে কিনা, আমার জানা নেই। কিন্তু এখন ওরা নিশ্চয় বুঝতে পেরেছে, ওদের কোথাও কোন খাবার নেই।

সমস্যা ও সংকট চারদিকেই।

দারিদ্র আরেকরকম সংকট।
চরম সংকট। যে সংকট এসেছে গরিব মানুষের কাছে। দিনমজুরদের কাছে। নিজের জন্য ছেলেমেয়েদের জন্য দুমুঠো কে দেবে?
শুধু দিনমজুরদের কথা কি বলব, যারা চায়ের দোকান করে সামান্য পুঁজি নিয়ে, যারা পাঁচ কেজি শাক বিক্রি করে,যারা ঘরে এসে কাজ করে?

এই সংকটকালে কি করবে?

লকডাউন কবে খুলবে নাকি আবার বাড়বে, এখনই বলা যাচ্ছে না। ফলে, আতঙ্ক থেকে যাচ্ছে।

আজ ভোরের দিকে দু তিনটে কুকুর আমাকে দেখেই ছুটে এলো——-যেহেতু আমি ওদের বিস্কুট দিই।
দেবার মত আজ বিস্কুট ছিল আমার কাছে। কিন্তু আগামীকাল দিতে পারবোনা।

সারা শহর লকডাউন।

গ্রামের অবস্থা আরো খারাপ।

প্রায় সবার ঘরে কোন বাথরুম নেই। জলের কোন ব্যবস্থা নেই। তাই, গ্রামের মানুষদের ছুটে যেতে হচ্ছে এখনো পুকুরে।
অথচ পুকুর কোনভাবেই নিরাপদ নয়।
পুকুর মানেই একসঙ্গে অনেক লোকের স্নান। শৌচ কর্ম। এবং পুকুরের জলে সবাই ফেলে যায় কফ থুথু।

নিরাপদ নয়।

ভিন রাজ্য থেকে চলে এসেছে যুবকেরা নিজের গ্রামে। তারা সবকিছু জেনেও হরি মন্দির শিব মন্দিরের দাওয়াতে তাস খেলছে। আড্ডা তো আছেই দিনভর।

তাহলে কি সংকট থেকে উদ্ধার পাবো ?

কোন কোন যুবক থেকে হঠাৎ বেরিয়ে রাস্তাতে দাঁড়ায়। দেখে শহরের ছবি। কোন ভাবেই বুঝতে পারছে না, বিপদটা কোথায় এবং কি।

সচেতনতার এত অভাব
বলতে গেলেও কানে নেয়না।
একজন নাগরিককে পুলিশকে বলতে হবে কেন বাড়ি যান——–।

সারা বিশ্ব এই সংকটে কাঁপছে। তখনো এদেশের গ্রাম ও শহরে সচেতনতার অভাব।
আর মানুষ সচেতন না হলে আইন দিয়ে কিছু হবে না।

যদি ঈশ্বর নামে কেউ থাকেন আজ তিনিও অসহায়।

গাছপালা ও কাঁপছে।

——নির্মল হালদার
২৪—-৩—২০২০

Leave a Reply