লালজী মাহাতো’র বিহা গীত

Literature_of_soil

এই সময়ের একজন অন্যতম বিশিষ্ট ঝুমৈর কবি ও ঝুমৈরা। সারা ছোটনাগপুর মুলুকে একডাকে যাকে লালজি নামে চেনে। নিজের লেখনির গুনে অনন্য। রয়েছে ঝুমৈর ছাড়াও বিহা গীত, টুসু গীতের একাধিক ব‌ই। অসচ্ছলতাও তাঁকে দমাতে পারে নি। নিজের অভাব অভিযোগ সরিয়ে রেখে মনের আনন্দে গেয়ে চলেছেন লিখে চলেছেন, এই ঝুমৈর দেশের কবিয়াল বন্ধু। তার‌ই এক ঝলক আজকের রবিবারের পাতায়।

 

এক

আলতা আনা কাজর আনা, আনা হেরইদ তেল।
এসনে সাজে সাজাহাক নুনুকে রাজাক বেটিঅ ফেল।

দিঅ গড়ে দাহাক নুনুকে ঘুঘুর বাঁধা নুপুর।
ডাঁড়াই ডাঁড়াই ছুটু বহুই ভালতেক ভুকুর ভুকুর ।।

সিথে দাহাক সিথাপাটি ঘেঁচায় সােনাক চেন।।
মুহে লাগায় দাহাক নুনুকে ৩,৪ রখমেক সেন।।

নথনি পিধায় দাহাক নুনুকে, নাখেকর ডগে।
খাঁটি সােনাক কাজর আলতা নুনুকর সঙ্গে।।

হেরইদ গাবা শাড়ি পিধাহাক এক নম্বর সুতি।
কিলিপ সাটি সাজায় দাহাক ভাঁঙ্গান চুইলেকর ঝুঁটি।।

হাঁথে দাহাক শাঁখা বাঁধি কানে কান পাশা।
নুনুকে তেল মাখায় মাখায় সবাইরা হাঁসা ।।

গড়েকেরি আঙ্গুরে রুপাক আঙ্গুর চুটকি।
লালজীই কহেই বাদ দিহাক না নাখে নাখ ফুটকি।।।

দুই

তকে যে রে দেখরইহক, বাঁধনা পরব বাসী।
পুঁঠি উেইড়কা ঝাড়ে হেলসিন রে লেলহা আইড়কাটানে বসি।।

আগুই পেছই বরাৎ রে তর, আওলথু স‌অ ডেঢ়েক।।
বিহাক বাদে লেদে বেদে রে লেলহা, আওবে লেড়েক লেড়েক।

জমি বেচায় টাকা লেলে নিহি বুঝলে দয়া ।
লিলজ সাজি বেটা বেচি রে টাকা সমটলও তর ময়া।।

ফাটল মুটাঁয় বকি দেলসিক হিরাে হুন্ডা পেসন ।
নিজেক বেটিক বিহা দেলে রে লেলহা বুঝভে দুখাইক কেসন।।

ঘেঁচায় চিপি টাকা লেলে বেচায় বহাল জমি।
পিঠা পিঠি পাঁচটি বেটি রে লেলহা হেবথু গনি গনি ।।

পরেক টাকাঁয় বরেক মায়েক অসার পাইড়া শাড়ি।
ঠেঙ্গা ধরা ঘারেক বুঢ়া রে বুলেই ধতি ঝাড়ি ঝাড়ি।।

রঙ্গিন বাতি, ডিজেসাউন্ড, খরচ পেটি পেটি।
নাপেক নাইত ফাটল পয়লা রে বরা ই কথাটা খাঁটি৷

লেখা পঢ়াক দাগ নাই তর, লাড়িস না তর মুটা
লালজী কহেই বেঙ্গালরে রে লেলহা ছালালাহও পুঁঠা।।

তিন

বারে বারে সরকারে, করেহেন যে মানা গাে।
কম বয়সে বিহা বারুন আহন ন নি জানা গাে।।

কান আড়ি শুনা সভে মরদ না মেহেরারু গাে।
১৮ বছরে বেটিক বিহা দিয়া শুরু গাে।।

বেটাক বিহা দিহান তরা ২১ বছরেক বাদ গাে।
জিলি উমইরে বেটাক না করিহা সাদ গাে ৷৷

লালজীই কহেই না ভুলিহা মানা কথা ধরা গাে।
নিজেক ছওয়াক ভাল মন্দ, নিজেই বিচার করা গাে।।

চার

ই বছরের খরা বাজারে , টাকা পয়সার টান গাে।।
রাইগ না রুইসনা জামাই রাইখতে লাইরব মান গাে।।

আষাঢ় শরাবন মাসে, জলের বড় টান গাে।
বাইদ, বহাল, কানালিতে, নাই যে হৈল ধান গাে৷৷

বড় কষ্ট করে জামাই করলি বিটি দান গাে।
আর না করিও জামাই , বেশি অপমান গাে।।

সাধের বিটি দিলি জামাই, ঘর হৈল শ্মশান গাে।
লালজী বলে বিদায় কালে লরে বহে বান গাে ।

পাঁচ

দৌড়ি চাপে দৌড়ি নাভে, বহনই লেদা মহুল গাছ।
নিরন মাসে, শালিক বিহা গাে বহনই দিহিঁ ডিস্কো নাচ।।

ডম ঘারেক নটই বহনই, জলহা ঘারেক সুতা ।
নেগ নিয়ম ভুল করলে হাে পাওবে পাঁজড়া গড়াঁয় গুতা।।।

লিলজ সাজি আওলে বহনই দাঁত গিলা পাজায়।
পালংখ তর আনেক কথা হাে বহনই আওলে হাঁড়ি মাজায়।।

বড় বাখইলেক বড় জামাই ডজন ডজন শালি।
দু একটা গাইর সহি রহবে হাে বহনই করিস না মু খালি ৷৷

লওতন জামাই দাড়ি কামাই সাজলাহােও পুরা ।
আর দু পাঁচ বছর বাদে হাে বহনই হেবে গুহেক নুড়া ।।

ছােট শালিক বিহা বহনই খাইলে আইখ নুবা।।
খাওয়াক বাদে গাঁজি দেবও হাে বহনই তিরঙ্গা, দিলরুবা।।।

থিরাঁয়, থিরাঁয়, জিরাঁয়, জিরাঁয় খাবে খাসিক মাস।।
ঢনকাহা লালজীকর রখম হাে বহনই লাজায় না পারাইস।।।

 

(বিঃদ্রঃ -ছোটনাগপুর ভয়েস পণপ্রথার প্রচার বা সমর্থন করেনা। গানের কথা গুলো নিতান্তই রূপক অর্থে ব্যবহৃত।)

Leave a Reply