পুরুলিয়া বিজেপি প্রার্থীর তিন বছরে বয়স বেড়েছে পাঁচ বছর

Recent

সাগর মাহাত: জ্যোতির্ময় সিং মাহাত| তিনি এবারের লোকসভা ভোটে বিজেপির প্রার্থী| কিছু সাধারণ মানুষের হত্যার জন্য অকারণে খবরের শীর্ষে পুরুলিয়া লোকসভা| ভিন রাজ্যের মিডিয়া থেকে নেতা, প্রধানমন্ত্রী থেকে মুখ্যমন্ত্রী সবার লক্ষ্য এখন পুরুলিয়ার দিকে| অবশ্য লক্ষ্য শুধু এবং শুধুই ভোটে জেতা| পুরুলিয়ার মানুষের জীবনের মানোন্নয়ন হয়তো গৌণ ব্যাপার ! পুরুলিয়াকে অবশ্য খারাপ কারণের জন্য হেডলাইন বানাতেই অভস্ত্য বাজারি মিডিয়া হাউস গুলোও| কখনো অস্ত্রবর্ষণ, কখনো মাওবাদী আবার কখনো রাজনৈতিক মৃত্যু| অযোধ্যা, তিলাবনী ধ্বংসের খবরকে হেডলাইন বানাতে খুব একটা মন নেই হলুদ সাংবদিকদের| সে যায় হোক আজকে আলোচনার বিষয় পুরুলিয়া লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী জ্যোতির্ময় বাবুর ‘আচ্ছে দিন’ কা|

জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো ২০১৬ সালে বাঘমুন্ডি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী ছিলেন| ভোটের নোমিনেশন পেপারে জ্যোতির্ময় সিং মাহাত সেসময় (১৭ই মার্চ ২০১৬) যে তথ্য দিয়েছিলেন তাতে লেখা আছে উনার বয়স ছিল ২৯ বছর| স্বাভাবিক ভাবেই এবছর লোকসভা ভোটের জন্য তিনি যখন নোমিনেশন জমা দেয় (১৮ই এপ্রিল, ২০১৯) ওনার বয়স হওয়া উচিত ছিল ৩২ বছর| কিন্তু এবারের নোমিনেশন পেপারে তিনি বয়স লিখেছেন ৩৪ বছর| স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে জ্যোতির্ময় বাবুর বয়স তিন বছরে পাঁচ বছর বাড়লো কি করে? হয় ২০১৬ সালে নোমিনেশন পেপার জমা দেওয়ার সময় তিনি ভুল তথ্য দিয়েছিলেন নাহলে এবারে কিছু ভুল তথ্য দিয়েছেন| ব্যাপারটা যায় হয়ে থাকুক ইলেকশন কমিশন যে এ ব্যাপারে পরোয়া করেন সেটা বোঝা যাচ্ছে দুটো নোমিনেশন পেপার গ্রহণ হওয়াতেই|

 

২০১৬ সালে জ্যোতির্ময়ের নামে ছিলোনা কোনো কেস| এবারের লোকসভা নোমিনেশন অবশ্য সেকথা বলছেনা| জ্যোতির্ময়ের নামে অভিযোগ রয়েছে পুরুলিয়া টাউন থানাতে এবং ঝালদা থানাতে| ২০১৬ সালে জ্যোতির্ময়ের কোনো প্যান কার্ড ছিলোনা| যদিও বিধানসভা ভোটের খরচ দেখানো হয়েছিল ২১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা কিন্তু সেটা কিভাবে হয়েছিল তা আমার জানা নেই| এবারের প্রচার, মিটিং মিছিলের খরচ কত হবে সেটা জানা যাবে ভোটের পরে| ২০১৬-এর নোমিনেশনে ৩ বিঘা পৈতৃক সম্পত্তির কথা লেখা থাকলেও লোকসভার নোমিনেশন পেপার-এ সে জমির কথা নেই| ২০১৬ সালে বসবাস করা বাড়ির দাম শূন্য দেখালেও এখন সেই দাম নাকি ১০ লক্ষ টাকা হয়েছে| অস্থাবর সম্পত্তিতে সব থেকে বড় পরিবর্তন স্করপিও গাড়ি| কিনেছেন ১৬ই মে ২০১৭| অবশ্য তার জন্য তিনি লোন নিয়েছেন মাহিন্দ্রা ফিনান্স থেকে| সেই লোনের ৪৫৬০০০ টাকা নাকি বাকি আছে| ২০১৬র নোমিনেশন পেপার অনুযায়ী যার সেরকম কোনো রোজগার ছিলোনা, ২০১৭-২০১৮ তে যার মোট রোজগার ২১৫৬৩০ টাকা, ২০১৮-১৯ অর্থ বর্ষে রোজগার ৪২৭,৮৮০ টাকা তিনি গাড়ির জন্য কিভাবে লোন পেয়েছিলেন সেটাও ভাবার বিষয়| ক্যাশলাশ ইন্ডিয়ার প্রচারকারি প্রধামন্ত্রীর দলের লোক হয়ে হাতে ৭৫০০০ টাকা থাকাটাও একটু বিস্ময়ের ব্যাপার|

তিন বছরের মধ্যে বয়স পাঁচ বছর বাড়া ছাড়াও স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি মিলিয়ে যে ১৯ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা বেড়েছে সেটা সত্যিকারের আছে দিনেরই লক্ষণ| আমার আপনার মতো গরিব গুর্বো চাষী বাসি মানুষদের টাকা যে কেন এমন বাড়েনা তার উত্তর বোধহয় সহজে পাওয়া যাবেনা| হয়তো এদেশে নেতা মন্ত্রীদের টাকা পয়সা যে হারে বাড়ে বয়সও সেই হারেই বাড়ছে|

Leave a Reply