জঙ্গল তুমি কার…

Editorials, Recent

নির্মল হালদার:

পাহাড়ে জঙ্গলে নদীতে পুরুলিয়া যতই সুন্দরী হোক
পুরুলিয়া আর পুরুলিয়া থাকবেনা। সুন্দরী হয়ে আর থাকবে না।

পর্যটন শিল্পের নামে
অযোধ্যা থেকে শুরু করে মুরগুমা জয়চন্ডী পঞ্চকোট
ফুটিয়ারিতে হোটেলের পাশে হোটেল। রিসোর্ট।

পর্যটকরা ভিড় করবে। টাকা আসবে সরকারের ঘরে। স্থানীয় মানুষের হাতেও দেখা যাবে টাকা আর টাকা। হোটেল ব্যবসার পাশাপাশি অন্যান্য ব্যবসা জমে উঠবে পর্যটকদের কারণে।

টাকা তো আসবে। অগ্রগতিও
আসবে। প্রশ্ন আসবে,
অগ্রগতি কি?
জঙ্গলে পর জঙ্গল কেটে, পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি করে
পর্যটকদের ডেকে আনার নাম কি অগ্রগতি?

পুরুলিয়া জেলার ঝালদার কাছেই বেগুনকোদর। তার কাছেই মুরগুমা। সুপুরডি মৌজা।
বাগমুন্ডি অযোধ্যা থেকেও যাওয়া যায়।
চারপাশে জঙ্গল পাহাড়। ছোট ছোট ঝোরা। অপরূপ সৌন্দর্য।

সেই সৌন্দর্যকে বিষয় করে পর্যটকদের কাছে ডাকা।
হোটেল ও রিসোর্ট করে
পর্যটকদের কাছে ডাকা।

এবং এজন্যে যত্রতত্র গজিয়ে উঠছে হোটেল। আবর্জনা বাড়ছে। প্লাস্টিকের ছড়াছড়ি।

হঠাৎ দেখা গেল, সুপুরডি মৌজার ৩০ হেক্টর জমির উপর দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য শাল গাছ কাটা হচ্ছে।

কখন কাটা হচ্ছে?

যখন গ্রামে গ্রামে ঘুরছে পুলিশ। যখন গ্রামের মানুষ ঘরে বন্দি হয়ে আছে, করোনা ভাইরাসের কারণে।

গ্রামবাসীদের মধ্যে দু চারজন দেখলেও কোন কিছু বলতে পারে না। কিন্তু খবরটা ছড়িয়ে যায়। তখন গ্রামবাসীরা লকডাউন ভেঙ্গে জঙ্গলে হাজির হয়।
যারা উচ্ছেদ করছিল বেড়ে ওঠা শাল গাছ গুলিকে, যারা নির্বংশ করছিল জঙ্গলকে, তাদের কাছে প্রশ্ন রাখে, কেন কাটা হচ্ছে জঙ্গল?

বন বিভাগ থেকে কেউ একজন উত্তর করেন: সরকারের অর্ডার।

অর্ডারেরতো কাগজ থাকবে?

গ্রামবাসীরা দেখতে চায় না।
তারা তো জানেও না সরকারের নিয়ম কানুন। বিধি নিষেধ।

এই জঙ্গল নিধনের খবর
একমাত্র জঙ্গলমহল টিভির কাছে পৌঁছে যায়।
সাংবাদিক আমজাদ ছুটোছুটি করে গিয়ে দেখেন, শাল গাছ গুলি শেষ হয়ে গেছে।

আমরা জানি, ওড়িশায় জঙ্গল কাটা নিষেধ। কোথাও কোথাও বাড়ির গাছ কাটতে গেলেও বন বিভাগের অনুমতি লাগে।
প্রশ্ন এই, কি কারনে, কি বিশেষ কারণে, ৩০ হেক্টর জমির গাছ কাটা হলো?

গ্রামবাসীরা কেন জানতে পারলোনা? তারাই তো, এতদিন রক্ষা করে এসেছে জঙ্গলকে। ভালোবেসে তারাই তো জল জঙ্গল কে রক্ষা করে। পাহাড় কে বাঁচায়। তবে কেন, লকডাউনের সুযোগে গাছ কাটা হবে?

তাহলে কি এর মধ্যে কোনো রহস্য আছে? কোনো শিল্পগোষ্ঠী মুরগুমা তথা সুপুরডি অঞ্চলে বাণিজ্য করবে? কি বাণিজ্য? তাদের স্বার্থে বাণিজ্য? মুনাফা যাবে কাদের ঘরে?

খবরটা ছড়িয়ে পড়তে পড়তে
কোনো কোনো জায়গায় রব উঠলেও এখনো প্রকাশ্যে বা জনমানসে বিষয়টি আড়ালে থেকে গেছে।

পুরুলিয়ার নাগরিক হয়ে আমি চাইছি, এই মুহূর্তে সমস্ত পুরুলিয়ার মানুষ জঙ্গল কাটার বিরুদ্ধে এগিয়ে আসুক।

সুন্দরী পুরুলিয়াকে সুন্দরী রাখার জন্যেই আজ খুব জরুরী সমস্ত মানুষের ঐক্যবদ্ধ লড়াই।

লড়াইটা না থাকলে, খুব শিগগির পুরুলিয়ার ধনরত্ন জল জঙ্গল পাহাড় বাণিজ্য গোষ্ঠীর হাতে শেষ হয়ে যাবে।

আসুন——পুরুলিয়া কে বাঁচাই।

Leave a Reply