তুষার দেবসিংহের কবিতা – ‘হামি চাষী’

Literature_of_soil

আজকের মাটির সাহিত্য বিভাগে আমরা পেয়েছি তুষার দেবসিংহের কবিতা। তুষার শালবনী ব্লকের কলাইমুড়ি গ্রামের বাসিন্দা। কলাইমুড়ি নেতাজী উচ্চবিদ্যালয়ে পার্শ্ব শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। কাজের অবসরে সাহিত্য চর্চা ও সমাজ সেবায় মেতে থাকেন।
কৃষকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হতাশা থাকে তাঁদের মধ্যে, যাঁরা মূলত ধান চাষ করেন। কারণ, উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের দাম সাধারণত কম হয়। ধানের ফলন খুব বেশি হলে দাম আরও কমে যায় এবং ধানচাষির লোকসান বাড়ে। এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে এত বেশি শোরগোল হয় যে অনেক সময় সরকারের জন্য এক বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কিন্তু তারপরেও কোথাও যেন থেমে যায় সবকিছু, বছর আসে বছর যায় কিন্তু সমস্যা আর মিটেনা। চাষীর জীবনের দুঃখ দুর্দশাময় বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে এ কবিতায়।

হামি চাষী
তুষার দেবসিংহ, কলাইমুড়ি
___________
মাথার ঘাম পায়ে ফ্যালে চাষ করি ক্ষেতে
সোনার ফসল ফলায় বলে তুমরা পাও খাইতে,
কাঠকাটা রোদে আমার মাথা ঘুরাইঞ যায়
পাক বাঁধা গামছা, সেটাও ঘামে ভিজে যায়।
ঠাঁই বাঁ ঠাঁই বাঁ করে বেলা ঘুইরে যায়
ছচাষ দিয়ে ফুরাঞ দিলেও বইসাম জুটে নাই
গলা সুখাঞ গেলে হামি জল খাত্যে যাই
ঘুইরে আইস্যে দেখি গরু আড় জুঁয়াল খাই
রগে তখন পিত্তি ঘরে আগুন জ্বইলে উঠে
ঘা কতক দি বৈসাঞ গরু দুটার পিঠে
মাইরের চোটে বুড়হা গরু বৈসে পড়ে কাদায়
একে ঘাইম্যে ছিলি হামি আরও ঘাইম্যে যায়
মই দিবার আগে হামি ভিটা কাটি আইড়ে
ভখের জ্বালায় ঘর দিগে ভালি আড়ে আড়ে
আলা হঁইয়ে যখন বসি আইড়ে ঠেস দিয়ে
বহু তখন আইসছে দেখি ছাতা ঢাকা লিয়ে
রাগে তখন বলি, এখন আমার সময় হৈল
ঝইনকে তখন বলে বহু, ঘরে দমে কাজ ছিল
সারাদিন কাইটে গেল বৈসে দাঁড়হাই ঘুরে
খাবার সময় হলেও বহু ছাতা মাথায় ধরে,
শাগে মাড়ে গিলে লিয়ে সিকা বাঁহুক ধরি
তলা বইত্যে হবেক তবে এখন তবে চলি ।

Leave a Reply