তরুণ কবি বিশ্বজিত মাহাত এর গুচ্ছ কবিতা

Literature_of_soil

আজকের মাটির সাহিত্যে পশ্চিম মেদিনীপুর এর গোয়ালতোড় থানার ধরমপুর গ্রামের তরুণ কবি বিশ্বজিত মাহাত এর এক গুচ্ছ কবিতা থাকলো।

গুল্ম ফুল

কোনো অপরিচিতা গুল্ম ফুল ঠিক তোমার দ্বিতীয়

জন্ম। আপাদমস্তক নগ্ন ছাইয়ের গুঁড়ো ও প্রিয় দুঃখের

ভাঁজ। মৌমাছি তাদের কামনায় ঘন মধুপ ঠোঁটে

কোনোদিনও তার জন্য ঈশ্বরীয় চাকের বাসর নির্মাণ

করতে পারেনা! অনুল্লেখিত গন্ধ দিয়ে, রাতে

করুণাময়ী জোনাকি, তার আশরীর জুড়ে তোমার

কুৎসা পোড়ায়।
কিন্তু ধূপধুনো মোড়া পঞ্চপ্রদীপই কুঁড়ের চারপাশে

অনবরত জ্বলতে থাকে তার পূর্বজন্ম, বিমাতা ও

গাঁজাখোরের কাওয়ালি।
অপরিচিতা’র, অতীত মৃত্যুর চোরাই শ্মশান পাশে

সযত্নে এখনো কেউ বাঁচিয়ে রেখেছে লোহা, শাঁখা, পলা

ও সাত জন্মের সিঁদুর. . .
——————————————————–
জঙ্গলের সূর্য

এ-জোনাকি গ্রাম জ্বলে ঈগল আঁচড়ে
ক্ষুধার্ত বেদেনী কন্যা একা
ভ্রূণ ব্যথা নিয়ে শালপাতার কুটিরে
শুধু শুধু সূর্য অস্ত যায়
রক্ত আর অমাবস্যা কাঁদে
——————————————————–
ভূত

জঙ্গলমহলে ছিল বুভুক্ষু হত্যার কাল, নক্ষত্র ও

জোনাকির বোবাকান্না, বুলেটের দিন। আদিগন্ত

খুদহীন ।
তাদের লালার রোদ কী উগ্র! অসহ্য। শুধু ভেঙে যায়

গান,তাপসহ পারদ-মানুষ। এই ভোলাদেশে সর্ষেফুল

ভুলেও ফোটে না, কোনো বীজ নেই। অথচ সর্ষের

মধ্যে ভূত বেঁচে থাকে। হে ইশ্বর, বেঁচে থাকো। রক্তের

লিখনপত্রে লিখো —

‘গাধার দাপটে মৃত তোদের জন্মের মুদ্রালিপি’
——————————————————–
আখানযাত্রা

বিষাদ, গরাম থানে ঠাঁই বসো, আদিগন্ত
মাহাত পুরুত
চোখ বুজে ঢেলে দেয় সহজ মূর্তির
দেহে — উলঙ্গ খিদের মুখ, গঙ্গাজল, দুধ
চোঁ চোঁ শুষে নেয় — জননী প্রণম্য ধূলি
——————————————————–
শালগাছ

যে বন্য বালক, ধুনোর লোভে শালের রমণীয় কোমর

কোপায়। সেখানে বনদেবীর বিনীত অশ্রুর চেয়ে

বালকের সাবলীল ক্ষুৎ, বীরত্বের সাথে ভেসে ওঠে—

কোনো অভিশপ্ত গঙ্গায়। তার নাতিশীতোষ্ণ মুখ ও

বনদেবীর বিচ্ছিন্ন জরায়ু-তে জড়ানো থাকে আদুড়ে

শালবন।… এবং ঝুমুর, মাদলের ছন্দে, সে শালডাটা

চিবোতে চিবোতে কাটারির প্রতি কোপে কাঁদো কাঁদো

                                                      স্বরে বলে:
‘কেঁদো না গো

বনদেবী। আমার ক্ষুৎ পেটেই গড়ে দেব কাহিল

কুমোরের হাতি, ঘোড়া। তাতে প্রাণ দিও, আরটুকু

মেটো ক্ষত্রিয়ের বিষ…’
——————————————————–

Leave a Reply