স্বাধীন ভারতের আদিবাসী হত্যা লীলার কালা দিবস আজ

Beyond Borders, Our Voice

সৌরভ বঁশরিয়ার : ১ লা জানুয়ারী নববর্ষের আগমন উদযাপনে যখন সারা বিশ্ব ব্যস্ত থাকে ঠিক সেদিনই ঝাড়খণ্ডের খারসওয়ান এবং কোলহান এলাকার আদিবাসী সম্প্রদায়গুলি ১লা জানুয়ারিকে কালো দিবস এবং শোক দিবস হিসাবে পালন করে। কারণ স্বাধীনতার মাত্র ঠিক সাড়ে চার মাস পরে, খারসওয়ান হাট বাজারটাঁইড়ে পুলিশের নির্বিচার গুলিচালনাতে সেদিন প্রান হারিয়েছিলেন নিজেদের সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য বাঁচানোর জন্য আন্দোলনরত এক বিশাল সংখ্যক স্থানীয় আদিবাসী মানুষ । এই ঘটনার কারণগুলি তদন্ত করতে আমাদের কিছুটা পিছনে ফিরে যেতে হবে।

১৯১২ সালে যখন বংগভংগ রদ এর পরে বাংলা থেকে বিহারকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল, তার ঠিক কয়েক বছর পরে ১৯২০ সালে, বিহারের মালভূমি অঞ্চল তথা ছোটোনাগপুর এর আদিবাসীদের দ্বারা ছোটনাগপুর উন্নতি সমাজ গঠিত হয়েছিল। বান্দি ওঁরাও ইউ এল লাকড়া’র নেতৃত্বে গঠিত উক্ত সংগঠনের মাধ্যম আদিবাসীদের পৃথক পরিচয় প্রতিষ্ঠার জন্য একটি পৃথক আদিবাসী রাজ্য কল্পনা করা হয়েছিল। কারন ততকালীন আদিবাসী সমাজের নেতৃত্বের আগাম ধারনা ছিল, যদি ভবিষ্যতে ভাষা ভিত্তিক রাজ্য গঠন হয় সেক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব ভাষা বা সংস্কৃতি দুটোরই অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যেতে পারে।

এরপর উড়িষ্যা গঠিত হয়েছিল ১৯৩৫ সালে। বাংলা থেকে উড়িষ্যা গঠনের পরে, আদিবাসী নেতারা যখন দেখলেন যে বিহার ও উড়িষ্যা সংস্কৃতি ও ভাষাগত ভিত্তিতে পৃথক রাষ্ট্রের মর্যাদা পেয়েছে, তারা ছোটনাগপুর উন্নতি সমাজের ব্যানারে ছোটনাগপুর অঞ্চলের কোলহান এবং সিংভূম অঞ্চলে পৃথক আদিবাসী রাজ্যের দাবি তুলতে শুরু করেন । এই অঞ্চলে বসবাসকারী মোট জনসংখ্যা র ৮০% এর ও বেশী ছিল আদিবাসী এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনের ভাষা ও সংস্কৃতি ছিল নিশ্চিত ভাবেই বাংগালী, বিহারী বা ওড়িয়া দের থেকে পুরোটাই আলাদা । এই পুরো অঞ্চলটি বন এবং পাহাড় দ্বারা বেষ্টিত এবং বাইরের জগত থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিল।

একই ধারাবাহিকতায় ১৯৩৮ সালে জয়পাল সিং মুন্ডা সাঁওতাল পরগনার আদিবাসীদের কে সংগঠিত করে একটি আদিবাসী মহাসভা গঠন করেছিলেন। আদিবাসীদের এই সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে, জয়পাল সিং মুন্ডা স্বাধীনতার আগে পৃথক আদিবাসী রাজ্যের ধারণাটি সামনে রাখার চেষ্টা করা করেন । শেষ পর্যন্ত, জয়পাল সিং মুন্ডার প্রয়াস ১৯৫০ সালে সফল হয়েছিল এবং “ঝাড়খণ্ড পার্টি” একটি রাজনৈতিক সংগঠন হিসাবে গঠিত হয়েছিল। আদিবাসী সমাজে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের লড়াই এখান থেকেই শুরু হয়েছিল।

১৯৫১ সালে, যখন দেশে প্রথম বার প্রাপ্তবয়স্ক দের ভোটদান এর মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠন হয়েছিল, ঝাড়খণ্ড পার্টি বিহারের ছোটনাগপুর অঞ্চলে একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল হিসাবে বিকশিত হয়েছিল। ১৯৫২ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ছোটনাগপুর ও সাঁওতাল পরগণাসহ ৩২ টি আসন আদিবাসীদের জন্য সংরক্ষিত ছিল এবং সমস্ত ৩২ টি আসন ঝাড়খণ্ড পার্টি দখলেই ছিল। বিহারে কংগ্রেসের পরে ঝাড়খণ্ড দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করার পরে, দিল্লিতে কংগ্রেসের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। এরপরেই শুরু হয়েছিল আদিবাসীদের মধ্যে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের খেলা। ফলস্বরূপ, ১৯৫৭ সালের সাধারণ নির্বাচনে ঝাড়খণ্ড দলটি চারটি আসন হারায়।

১৯৫৫ সালে, পৃথক ঝাড়খণ্ড রাজ্যের দাবি রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের সামনে রাখা হয়েছিল। ১৯৬২ সালের সাধারণ নির্বাচনে ঝাড়খণ্ড পার্টি র আসন কমে ২০ তে নেমে যায় । ১৯৭৩ সালে, বিহারের তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রী বিনোয়ানন্দ ঝাড়খন্ড পার্টির সুপ্রিমো জয়পাল সিং মুন্ডা সহ সকল বিধায়ক এর সাথে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ান এবং পুরো ঝাড়খণ্ড পার্টি কংগ্রেসের সাথে মিশে যায় । সম্ভবত প্রথমবারের মতো ঘোড়া ব্যবসার সংস্কৃতি উপজাতীয় নেতাদের মধ্যে প্রবেশ করেছিল। পৃথক ঝাড়খণ্ড রাজ্যের আন্দোলন এখানেই মুখ থুবড়ে পড়ে।

আদিবাসী দের এই রাজনীতি’র মাঝখান এ এমন নৃশংস, বর্বোরোচিত ঘটনা ঘটেছিল ১৯৪৮ সালে অর্থাৎ স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে চার মাস পরে, এবং সেটি ই ছিল স্বাধীন ভারতের প্রথম গণহত্যা।
স্বাধীনতার ঠিক পরে ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট সিংভূমের আদিবাসী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ২৫ ডিসেম্বর ১৯৪৭ চন্দ্রপুর জোজোডিহ নদীর তীরে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে সিদ্ধান্ত হয় যে সিংভূমকে উড়িষ্যা রাজ্যে রাখা উচিত নয়। বরং এটিকে আলাদা ঝাড়খণ্ড রাজ্য হিসাবে রাখা উচিত। অন্যদিকে, সেরাইকেলা ও খারসওয়ানের রাজারা একে উড়িষ্যা রাজ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলেন । আদিবাসী সম্প্রদায়গুলি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে তাদের পরিচয় বজায় রাখতে চেয়েছিল, এর জন্য তারা সংগঠিত হতে শুরু করে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে ১ লা জানুয়ারী খরসওয়ানের বাজারটাঁইড় এ সভার আয়োজন করা হবে এবং সেখানে ততকালীন আদিবাসী দের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা জয়পাল সিং মুন্ডাও উপস্থিত থাকবেন।

জয়পাল সিং মুন্ডা এই সভায় যোগ দিতে সম্মত হন এবং সাথে সাথে , চক্রধরপুর, চাইবাসা, জামশেদপুর, খারসওয়ান, সরাইকেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের আবাল বৃদ্ধ বনিতা জয়পাল সিংহের তথা মারাং গোমকে’র কথা শোনার জন্য সভাস্থল এর দিকে রওয়ানা দিয়েছিলেন। পুরো ছোটোনাগপুর জুড়ে ছিল সেদিন এক অদ্ভুত উদ্দীপনা । সভায় অংশ নেওয়া লোকেরা তাদের সাথে কাঠের বান্ডিল, ভাত, রান্নার জিনিসপত্র, মাথায় বাকী জরুরী সামগ্রী নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিল । প্রকৃতপক্ষে সেই সময়ে, সমসত ঝাড়খণ্ড এর আদিবাসীরা মনে মনে একটি পৃথক ঝাড়খন্ড রাজ্যের স্বপ্ন দেখা শুরু করে দিয়েছিল, তাই সেদিন সকাল থেকে সবার মধ্যে ছিল একটা পরব পরব ভাব।

সামাজিক কর্মী ও সাংবাদিক যোগো পূর্তি’র এক প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি সেই ঘটনার নৃশংসতা ও ভয়াবহতা তার পিতা স্বর্গীয় বোঁচ পুরতি’র কাছ থেকে অনেক বার শুনেছেন । সেই সময়, তাঁর বাবা’র বয়স প্রায় ১৪ -১৫ বছর ছিল। তিনি বলতেন যে জয়পাল সিং মুন্ডার আমন্ত্রণে বড়, বৃদ্ধ, শিশু এবং মহিলারা সকলে ১৯৪৮ সালের ১ জানুয়ারী খারসওয়ান হাটে জড়ো হন। জয়পাল সিং মুন্ডা তখনও সভাস্থলে পৌঁছান নি। প্রায় ৫০ হাজার লোকের ভিড় ছিল, লোকেরা জয়পাল সিংয়ের জন্য অপেক্ষা করছিল তারপর হঠাত ই সেখানে গুলিবর্ষণ শুরু হয়, এবং তিনি কোনওভাবে মাঠের মধ্যে দিয়ে পালাতে সক্ষম হন।

প্রাক্তন বিধায়ক বাহাদুর ওরাওনের মতে, ১৯৪৮ সালের ১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার হাট এ ভিড় একটু বেশীই ছিল। আশেপাশের মহিলারাও এসেছিলেন। একই সময়ে, দূর-দূরান্ত থেকে শিশু এবং পুরুষরা হাতে প্রচলিত অস্ত্র এবং তীর দিয়ে সজ্জিত ছিল। পথে সমস্ত লোক স্লোগান দিচ্ছিল এবং স্বাধীনতার গানও গাইছিল। একদিকে রাজার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পুরো কোলহান জ্বলছিল, অন্যদিকে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী বিজয় পানি সিংভূমকে ওড়িশা রাজ্যে একীভূত করার ষড়যন্ত্র করছিলেন।কারণ সিংভূমের অঞ্চলটি পাহাড় এবং বন দ্বারা ঘেরা ছিল, যা ছিল খনিজ সম্পদে পরিপূর্ণ এবং সেটা উড়িষ্যার মুখ্যমন্ত্রী বিজয় পানির কাছে অজানা ছিলনা। তাই এই খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপুরর্ন অঞ্চল কুক্ষিগত করার জন্য ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নিষ্ঠুরতার সীমা অতিক্রম করেছিলেন।

পৃথক রাজ্যের জন্য স্থানীয় আদিবাসী রা জমায়েত হবে জানতে পেরে উড়িষ্যা রাজ্য প্রশাসন লুকিয়ে লুকিয়ে পুলিশকে খারসওয়াতে পাঠাতে শুরু করে ১৮ ডিসেম্বর, ১৯৪৭ থেকেই। উড়িশ্যা পুলিশ ডেরা বাঁধতে শুরু করে খরসওয়া মিডল স্কুলে এবং সেটাও দিনে দুপুরে নয় , অন্ধকারে, প্রধান প্রধান সড়ক দিয়ে নয়, অন্যান্য পথ দিয়ে। সহজ সরল আদিবাসীরা এই ধরনের ষড়যন্ত্র যে হতে পারে সেটা বুঝতে পারেনি এবং তারা পৃথক রাজ্যের স্বপ্নে মশগুল হয়ে সভার সভাস্থলের দিকে যাত্রা করতে থাকে । ছোটোনাগউর এর আকশে তখন মুহুর্মুহু ‘জয় ঝাড়খণ্ড’ ও উড়িষ্যার মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্লোগান।

কথিত আছে যে ১৯৪৮ সালের ১ লা জানুয়ারির সকালে রাজ্যের প্রধান সড়কগুলি থেকে একটি মিছিল বের করা হয়েছিল। এর পরে, আদিবাসী মহাসভার কয়েকজন নেতা খারসওয়ান রাজার প্রাসাদে গিয়ে তাঁর সাথে দেখা করে সিংভূমের লোকদের আকাঙ্ক্ষার কথা জানান। সব শোনার পর , রাজা আশ্বাস দিয়েছিলেন যে তিনি এই বিষয়ে ভারত সরকারের সাথে কথা বলবেন। দুপুর ২ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার পরে আদিবাসী মহাসভার নেতারা সবাইকে নিজ নিজ বাড়িতে যেতে বলেছিলেন। প্রত্যেকে নিজ নিজ বাড়ির দিকে এগিয়ে যেতেই আধ ঘন্টা পরে সতর্কতা ছাড়াই গুলি চালানো শুরু হয়। কয়েক ঘন্টা ধরে এই গুলি চলতে থাকে এবং গুলি চালানোর জন্য আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এই গুলিতে লোকেরা কাটা গাছের মতো পড়তে শুরু করে । এই গুলি চালানো থেকে বাঁচতে কিছু লোক মাটিতে শুয়ে পড়ে , কিছু লোক দৌড়াতে শুরু করে , অনেক লোক প্রাণ বাঁচাতে আশেপাশের কূপেও ঝাঁপিয়েও পড়েছিল, এতে কয়েকশ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। কিন্তু সৈন্যদের কাছ থেকে গুলি চালানোর প্রক্রিয়া থামেনি।

শুধু যে নারী ও পুরুষ কেই এই নারকীয় ফায়ারিং স্কোয়াড এর সামনে দাড়াতে হয়েছিল তা নয়, শিশুদের পিঠে গুলি চালানো হয়েছিল। এমনকি অনেক ঘোড়া, ছাগল এবং গরু এই রক্তাক্ত ঘটনার শিকার হয়েছিল। গুলি চালানোর পরে লোকজনের মৃতদেহ পুরো মাঠে ছড়িয়ে পড়ে এবং আহতরাও সেখানে পড়ে যায়। আহতদের ওড়িশা সরকারের সৈন্যরা ঘিরে রাখে এবং সৈন্যরা সেখানে কোন আহতকে বাইরে যেতে দেয়নি বা আহতদের সাহায্য করার জন্য কাউকে আসতে দেয়নি।

ঘটনার পর সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথে এই গণহত্যার প্রমাণ ওড়িশা সরকারী সৈন্যরা নির্মমভাবে সাফ করা শুরু করেছিল। সৈন্যরা মৃতদেহ সংগ্রহ করে প্রায় ১০ টি ট্রাকে করে সারান্ডার উপত্যকায় ফেলে দেয়। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয়টি ছিল আহতদের সারা রাত খোলা জায়গায় রেখে দেওয়া হয়েছিল এবং জল পর্যন্ত ও দেওয়া হয়নি। এর পরেও , উড়িষ্যা সরকার এই ঘটনাটি বাইরের বিশ্ব থেকে আড়াল করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিল।

প্রাক্তন বিধায়ক বাহাদুর ওঁরাও এর মতে, উড়িষ্যা সরকার চাইছিল না যে এই গণহত্যার খবর বাইরে বেরিয়ে আসুক এবং এটি বন্ধ করার জন্য সমস্তধরনের প্রচেষ্টা করা হয়েছিল। এমনকি বিহার সরকার আহতদের চিকিত্সার জন্য মেডিকেল দল ও সেবা দল প্রেরণ করেছিল, যাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল ।এমনকি সাংবাদিকদের এই জায়গাতে প্রবেশের অনুমতি ছিল না।

খরসওয়া র সেই এই ঐতিহাসিক ভূমিতে একটি কূয়ো ছিল, পালানোর কোনও উপায় না পেয়ে কিছু লোক নিজের জীবন বাঁচাতে মাঠের একমাত্র কুয়োতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, ঘটনার নির্মমতায় কিছুক্ষনের মধ্যে সেই কুয়ো গুলিবিদ্ধ আদিবাসী দের মৃত দেহে ভরে ওঠে ।

গুলি চালানোর পরে, যে স্বজনরা তাদের আত্মীয়দের নিতে আসে নি, তাদের দেহ সেই কূয়ো তে রাখা হয় এবং সেই কুয়ো বন্ধ করে দেওয়া হয এবং ঠিক সেখানেই শহীদদের স্মৃতিসৌধ নির্মিত করা হয় । ১ জানুয়ারি ফুল ও তেল দিয়ে সেদিন স্বাধীন ভারতের প্রথম গনহত্যা তে নিহত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এই নৃশংস ঘটনা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়তেই সারা দেশজুড়ে একটা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় । সেই দিনগুলিতে দেশের রাজনীতিতে বিহারের নেতাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছিল এবং তারাও চাইতেন উক্ত খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ এ পরিপুর্ন অঞ্চল গুলি যেন বিহার এ থাকে । ফলস্বরুপ সে যাত্রা তে উক্ত অঞ্চল উড়িস্যা থেকে আলাদা হয়ে সাময়িক সমাধান হিসেবে বিহার এ যোগদান করে।
ঘটনার পরে সময়ের সাথে সাথে এই জায়গাটি খারসওয়ান শহীদ স্থল নামে পরিচিতি লাভ করে, যা আদিবাসী সমাজ এবং রাজনীতিতে অত্যন্ত আবেগময় এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থান অর্জন করে। খারসওয়ান হাটের একটি অংশে আজও সেই শহীদ স্মৃতিসৌধ রয়েছে এবং এখন পুরো এলাকা টি একটি পার্কেও রূপান্তরিত হয়েছে। এর আগে এই পার্কটি সাধারণ মানুষের জন্যও উন্মুক্ত ছিল। তবে ২০১৩ সালে এখানে ‘শহীদ দিবস’ সম্পর্কিত একটি ইভেন্ট চলাকালীন, তখন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয় এবং তার উদ্যেশ্যে জুতো ছোড়া হয় । পার্কটি তখন থেকে সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার বিষয় রয়েছে যে নবনির্বাচিত হেমন্ত সরকার এই পার্কটি আবার সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে কিনা।

Leave a Reply